কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে বইছে আলোচনার ঝড়। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ পড়ার পরপরই পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) অন্তর্ভুক্তির খবর তাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে এই ঘটনার রেশ ধরে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন এক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত টানাপোড়েন।
মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে মোস্তাফিজকে স্বাগত জানানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ব্যাটাররা সাবধান… এবার নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে ‘ফিজ’। পিএসএলের ১১তম আসরে যোগ দিচ্ছে মোস্তাফিজুর রহমান।
ইতিমধ্যেই মোস্তাফিজ পিএসএলের ড্রাফটে নিজের নাম নিবন্ধন করেছেন। তার এই অন্তর্ভুক্তিকে পাকিস্তানের ক্রিকেট সমর্থকরা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
এর আগে, আসন্ন আইপিএল মৌসুমে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) তাদের স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেয়। কেকেআর কর্তৃপক্ষ জানায়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশনা অনুযায়ী ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণে তাকে ছাড়তে হয়েছে।
একজন খেলোয়াড়কে ভারত নিরাপত্তা দিতে পারছে না—বিসিসিআইয়ের এমন অজুহাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রশ্ন, একজন খেলোয়াড়কে যেখানে ভারত নিরাপত্তা দিতে পারছে না, সেখানে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পুরো বাংলাদেশ দলকে তারা কীভাবে নিরাপত্তা দেবে?
নিরাপত্তা নিয়ে এই চরম অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিসিবি এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিসিবি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল পাঠানো সম্ভব নয়।
ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের ভেন্যু ভারত থেকে সরিয়ে অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের অনুরোধ জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলে (আইসিসি) ই-মেইল পাঠিয়েছে বিসিবি। তবে এখন পর্যন্ত আইসিসির পক্ষ থেকে এই মেইলের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি।
মোস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়া এবং পিএসএলে যোগদান এখন কেবল খেলার মাঠের খবর নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটের এক বড় ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ক্রিকেটবোদ্ধাদের মতে, আইসিসি যদি দ্রুত কোনো সমাধান না দেয়, তবে বিশ্ব ক্রিকেটে এক বড় ধরণের অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।


