বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবেই দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে শিগগিরই তাঁকে দলের ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে বিএনপি। এজন্য কোনো কাউন্সিলের প্রয়োজন না হলেও নীতি নির্ধারণী ফোরাম অর্থাৎ স্থায়ী কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এর ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণায় দলপ্রধান হিসেবে কার ছবি ব্যবহার হবে, সেই আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্নেরও সমাধান হবে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারপারসনের পদটি শূন্য। তবে গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারা অনুযায়ী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানই বর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ হওয়ার পর থেকেই তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরেছেন।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর গ ধারায় উল্লেখ আছে—কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাবেন। নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনিই সেই দায়িত্বে থাকবেন।
নেতারা বলছেন, তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান ঘোষণা করতে এখন কেবল স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের দলের সংবিধানেই বলা আছে, পদ শূন্য হলে স্থায়ী কমিটি পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্ধারণ করবে। এখানে অন্য কোনো দিকে যাওয়ার সুযোগ নেই। কার্যত তিনি এখন চেয়ারম্যানের দায়িত্বই পালন করছেন।’
এদিকে, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর আগেই দলের প্রধান চূড়ান্ত করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী, দলীয় প্রার্থীরা ব্যানার, লিফলেট বা ফেস্টুনে কেবল তাঁদের বর্তমান দলপ্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। যেহেতু খালেদা জিয়া প্রয়াত, তাই আইনিভাবে তাঁর ছবি দলপ্রধান হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশের মানুষ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্থানে তারেক রহমানকেই গ্রহণ করেছেন। অনেকে তাঁকে চেয়ারম্যান বলতে শুরু করেছেন, বাকিরাও করবেন। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুব দ্রুতই ঘোষণা করা হবে।’
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে বৈধ ঘোষণা করেছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগ পর্যন্ত নথিপত্রে তাঁকে ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবেই উল্লেখ করছে বিএনপি।

