পাকিস্তান প্রথমবার স্বীকার করেছে, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় তাদের নূর খান বিমান ঘাঁটিতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ৮০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করে নূর খান বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ৭৯টি ড্রোন আটকাতে সক্ষম হলেও একটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়।
নূর খান বিমান ঘাঁটি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। দারের মন্তব্য, এই হামলা ভারতের জন্য ভুল ছিল, কারণ হামলার পরই পাকিস্তান পাল্টা অভিযান ‘অপারেশন বুনিয়ান উম মারসুস’ চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির কোনো আহ্বান পাঠায়নি। ১০ মে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে ফোন করে জানায়, ভারত যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত এবং জানতে চায় পাকিস্তানও রাজি কি না। দার জানান, পাকিস্তান যুদ্ধের পথে যেতে চায়নি।
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগাম এলাকার বৈসরন উপত্যকায় সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ পর্যটক নিহত হয়, যাদের অধিকাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। এই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দায় স্বীকার করে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের একটি জঙ্গিগোষ্ঠী। ভারতের প্রতিক্রিয়ায় সিন্ধু নদের পানি বণ্টনচুক্তি স্থগিত করা ও পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিলসহ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জবাবে পাকিস্তানও ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ, ভিসা বাতিলসহ পাল্টা পদক্ষেপ নেয়।
অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের পক্ষ দাবি করে, ৭০ পাকিস্তানি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করে নিহত হয়েছে ৩১ জন এবং আহত হয়েছে ৫৭ জন, যারা কেউ সন্ত্রাসী নয়।


