Monday, February 9, 2026

Top 5 This Week

Related Posts

জামায়াতে ইসলামীর জোট ছাড়ার গুঞ্জন নিয়ে যা জানালো ফয়জুল করীম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও ১১ দলীয় জোটের ভেতরে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আগামী ৯ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারিত থাকলেও জোটের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের কারণে সমঝোতা প্রক্রিয়া আটকে আছে। তবে উদ্ভূত সমস্যা দ্রুতই নিরসন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুসারে, ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে অধিকাংশ দলের সঙ্গে আসন বণ্টন চূড়ান্ত হলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকায় জামায়াতে ইসলামী ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রেখে বাকি ১১০টি আসন শরিকদের মধ্যে বণ্টনের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে খেলাফত মজলিশকে ১৫টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশকে ১০টি, এনসিপিকে ৩০টি এবং ইসলামী আন্দোলনকে ৩৫টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য ছোট শরিকদের জন্য ২ থেকে ৪টি করে আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  এইমাত্র পাওয়া: রাজধানীর মণিপুরী এলাকা থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের…

তবে ৩৫টি আসনের এই প্রস্তাব মানতে নারাজ চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন। তারা অন্তত ১২০টি আসনের দাবি তুলে বর্তমানে জোরালো দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে। দলটির নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম মনে করেন, জনভিত্তি অনুযায়ী তারা জোটের অন্যতম প্রধান শক্তি এবং সে অনুযায়ী সম্মানজনক আসন না পাওয়া পর্যন্ত তারা সমঝোতায় সায় দেবেন না। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে, জোটে নতুন যুক্ত হওয়া দলগুলোর সঙ্গে যথাযথ আলোচনা না করে কেবল জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক করে এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা কাম্য নয়।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকা-দিল্লি উত্তেজনা তুঙ্গে, ভারতের নতুন বার্তা

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা এই পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন। দলটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং প্রচার সম্পাদক এহসানুল মাহবুব যোবায়ের জানিয়েছেন যে, বড় জোটে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য হওয়া স্বাভাবিক এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের আগেই একটি সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তাদের মতে, জোটের সংহতি রক্ষায় সব দলই শেষ পর্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

আরও পড়ুনঃ  বড় দুঃসংবাদ পেল ভারত

তবে জোটের একটি পক্ষ ইসলামী আন্দোলনের এই বিশাল আসন দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা জানান যে, নির্বাচনের বাস্তবতায় জোটে থাকতে হলে ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন সমঝোতায় ফিরে আসবে নাকি স্বতন্ত্রভাবে অধিকাংশ আসনে নির্বাচন করবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।

Facebook Comments Box

Popular Articles