চলন্ত মোটরসাইকেলে পেছন থেকে এসে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয় যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে।
ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতেই দুজনকে হেফাজতে নেয়। তাদের মধ্যে বাসিত আলী পরশ (২৯) আলমগীর হোসেনের মেয়ে জামাই। অন্যজন বিএনপি নেতা আসাবুল ইসলাম সাগর (৫০)।
সোমবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে জামাই পরশ ভাড়াটে খুনি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। একইসঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যা পরিকল্পনায় অংশ নেন বিএনপি নেতা সাগর।
আলমগীর হোসেন যশোর পৌরসভার ৭ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শনিবার রাতে যশোর শহরের শংকরপুর ইসহাক সড়কে তাকে হত্যা করা হয়। এছাড়া মেয়ে জামাই জড়িত বলে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন আলমগীরের স্ত্রী শামীমা বেগম। দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জনের নামে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে গুলির ঘটনাটি ঘটে। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, মোটরসাইকেলে যাচ্ছেন আলমগীর হোসেন। পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেল তার পাশে পৌঁছামাত্রই গুলি করে দ্রুতগতিতে বের হয়ে যায় ঘাতকের মোটরসইকেলটি। ওই সময় দুটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত চারজন ছিল। তাদের মধ্যে প্রধান শুটার ও তার সহযোগীদের এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে আটক করা হয়েছে। শুটারসহ অন্য সহযোগীদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নিহত বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনের স্বজনরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জামাই পরশের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিরোধ চলছিল তাদের। কয়েক মাস আগে আলমগীরকে হত্যার হুমকিও দেন পরশ।
পরশ বিয়ের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে জানিয়েছেন আলমগীরের মেয়ে এলেরা খাতুন। তিনি বলেন, ‘পরশের নামে সব জমিজায়গা লিখে দিতে হবে, না হলে বাবাকে খুন করবে- এমন হুমকি সে প্রায়ই দিতো। কিছুদিন আগে সে বলেছিল- একটি পিস্তল কিনেছি আমার শত্রুকে শায়েস্তা করার জন্য। সময় হলে দেখতে পারবা।’
এলেরা আরও বলেন, ‘আমার বাবাকে যে বা যারা হত্যা করেছে আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। যদি আমার স্বামী অপরাধী হয় তারও ফাঁসি চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পরশের বাবা ও নগর বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুলু বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলের সঙ্গে ১০ বছর আগে আলমগীর হোসেনের মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সংসারে অশান্তি লেগে থাকত। এ নিয়ে কয়েক দফা সালিশও হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যদি সে জড়িত থাকে, দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হোক।’
জানতে চাইলে যশোর কোতোয়োলি থানার ওসি ফারুক আহম্মেদ যুগান্তরকে বলেন, আলমগীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোববার একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

