Monday, February 9, 2026

Top 5 This Week

Related Posts

শোকের দিনে থানার ওসির খাসি জবাই দিয়ে ভূরিভোজ

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় আনন্দ উৎসবসহ ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনও সীমিত করে পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। শোকের দিনে কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার ওসি সোয়েল রানা খাসি জবাই দিয়ে ভূরিভোজের আয়োজন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আয়োজনের একটি খণ্ডচিত্র থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও কনস্টেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারও করেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশসহ সর্বমহলে আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

এসআই ফাইসাল তার ফেসবুক প্রফাইলে খাসি কাটার একটি ছবি দিয়ে লেখেন- ২০২৬ সালকে বরণ করতে প্রস্তুতি চলছে। অন্য একটি ছবিতে থানার ওসি ও এসআই ইব্রাহিমের খাবার দৃশ্যের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন- কচাকাটা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মহোদয়।

আরও পড়ুনঃ  জকসু নির্বাচনে যে ৫ পদে হারল শিবির

এছাড়া আরও একজন কনেস্টেবলকে একই ধরনের পোস্ট দিতে দেখা যায়। থানার এমন কাণ্ডে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এছাড়া একই রাতে স্থানীয় জাতীয় পার্টির ১৫ থেকে ২০ নেতাকর্মীর সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা ও মিষ্টিমুখ করেছেন ওসি।

জানা যায়, স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ৫ কেজি মিষ্টি নিয়ে ওসির সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সেই মিষ্টি উৎসব করে বিতরণ করা হয়। এ নিয়ে সমালোচনাও হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে প্রতিবাদ করেন।

বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের ছাত্রদল সভাপতি মাইদুল ইসলাম জানান, কচাকাটা থানায় খাসি মেরে ভূরিভোজ ও মিষ্টি বিতরণ করে রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করায় আমরা মর্মাহত। আমরা এ খবর পেয়ে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চার ইউনিয়নের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে প্রতিবাদ করেছি।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছেন যারা নাম সহ লিস্ট দেখে নিন।

জাতীয় পার্টির কচাকাটা ইউনিয়নের নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন জানান, জাতীয় পার্টির প্রার্থীর গণসংযোগ আছে। সেই বিষয়ে ওসিকে অবহিত করতে আমরা গিয়েছিলাম। এ সময় বলদিয়া ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির নেতা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক কয়েক কেজি মিষ্টি নিয়ে আসছিলেন।

বিএনপির কেদার ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান জানান, দেশনেত্রীকে হারিয়ে সারা দেশের মানুষ যখন বেদনাতুর তখন কচাকাটা থানায় ওসিসহ সব কর্মকর্তারা ভূরিভোজ ও মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উৎসব করেন। এ বিষয়ে আমরা তিব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। এছাড়া এ থানার সব অফিসার অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টদের পুর্নবাসন করছে। এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করে আমরা এর প্রতিকার চাই।

আরও পড়ুনঃ  ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানিতে প্রধান উপদেষ্টার গভীর শোক

কচাকাটা থানার ওসি সোয়েল রানা জানান, থানায় কোনো পার্টি বা ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়নি। আমাদের মেসের প্রতি মাসের শেষ দিন এমন খাওয়ার আয়োজন করা হয়ে থাকে। থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কোনো আয়োজন করা হয়নি।

সহকারী পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী–কচাকাটা সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

Facebook Comments Box

Popular Articles